নাজিম বকাউল, ফরিদপুর
ফরিদপুরের ভাঙ্গায় সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় দুটি ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যানসহ ২১ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা দায়ের করেছে হাইওয়ে পুলিশ। মামলায় অজ্ঞাতপরিচয় আরও অনেককেও আসামি করা হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) রাতে ভাঙ্গা হাইওয়ে থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সার্জেন্ট আজাদুর রহমান বাদী হয়ে এই মামলা দায়ের করেন।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, প্রধান দুই আসামি হলেন হামিরদী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. খোকন মিয়া এবং তুজারপুর ইউপি চেয়ারম্যান ওলিউর রহমান।
ভাঙ্গা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রোকিবুজ্জামান জানান, ১৫ সেপ্টেম্বরের সহিংস বিক্ষোভে একটি অ্যাম্বুলেন্স, পুলিশের তিনটি গাড়ি, সার্জেন্টদের ব্যবহৃত মোটরসাইকেল ও অন্যান্য সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। এতে আনুমানিক ৬৫ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
উল্লেখ্য, নির্বাচন কমিশনের জারি করা একটি প্রজ্ঞাপনের প্রেক্ষিতে এই বিক্ষোভের সূত্রপাত ঘটে। ৪ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত ওই প্রজ্ঞাপনে ফরিদপুর-৪ আসনের আওতাভুক্ত ভাঙ্গার আলগী ও হামিরদী ইউনিয়নকে বাদ দিয়ে নগরকান্দা ও সালথাকে ফরিদপুর-২ আসনের সঙ্গে যুক্ত করা হয়। এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ৫ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হয় ধারাবাহিক বিক্ষোভ, যা ১৫ সেপ্টেম্বর এসে সহিংস রূপ নেয়।
সেদিন বিক্ষোভকারীরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়, উপজেলা নির্বাচন অফিস, ভাঙ্গা থানা, হাইওয়ে পুলিশ কার্যালয়সহ বিভিন্ন সরকারি স্থাপনায় হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে।
এ ঘটনায় হাইওয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে দায়ের করা মামলাটি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

