দৌলতপুর (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি
ডিজেল সংকটে যখন দিশেহারা কৃষক, ঠিক তখনই আশার আলো দেখাচ্ছেন কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার এক তরুণ উদ্যোক্তা মনিরুল ইসলাম। অব্যবহৃত পোড়া মবিল থেকে তিনি উদ্ভাবন করেছেন ডিজেলের বিকল্প জ্বালানি ‘ম্যাড’ (মেথড অব অলটারনেটিভ ডিজেল), যা ইতোমধ্যে স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।
দৌলতপুর উপজেলার তারাগুনিয়া গ্রামের মেশিনারিজ ব্যবসায়ী মনিরুল ইসলাম ২০০৭ সাল থেকে ডিজেল ইঞ্জিনের বিকল্প জ্বালানি নিয়ে গবেষণা শুরু করেন। দীর্ঘদিনের চেষ্টায় তিনি একটি কার্যকর পদ্ধতি উদ্ভাবনে সক্ষম হয়েছেন বলে দাবি করেন।
তিনি জানান, ৫ লিটার পোড়া মবিলের সঙ্গে তার উদ্ভাবিত ১০০ গ্রাম বিশেষ বুস্টার মিশিয়ে প্রায় ৭ লিটার ডিজেলের সমপরিমাণ কার্যক্ষম জ্বালানি তৈরি করা সম্ভব হচ্ছে। এই জ্বালানি দিয়ে সেচকাজে ব্যবহৃত ডিজেলচালিত ইঞ্জিন চালানো যাচ্ছে।
স্থানীয় কৃষক আকরাম হোসেন ও ওমর আলী বলেন, তারা পরীক্ষামূলকভাবে এই বিকল্প জ্বালানি ব্যবহার করে ইতোমধ্যে সেচ কার্যক্রম চালাতে পারছেন। এতে জ্বালানি খরচ প্রায় ৭০ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে, যা কৃষকদের জন্য বড় স্বস্তি হয়ে এসেছে।
তবে বিশেষজ্ঞরা বিষয়টি নিয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। হোসেনাবাদ টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজের ফার্ম মেশিনারি বিভাগের প্রধান জাহিদুল হক বলেন, উদ্যোগটি উদ্ভাবনী হলেও দীর্ঘমেয়াদে ইঞ্জিনের ওপর এর প্রভাব সম্পর্কে নিশ্চিত হতে আরও বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা প্রয়োজন।
দৌলতপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রেহেনা পারভীন জানান, কৃষি বিভাগের তত্ত্বাবধানে মাঠপর্যায়ে এই জ্বালানির কার্যকারিতা যাচাই করা হচ্ছে। ইঞ্জিনের কোনো ক্ষতি বা পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হচ্ছে কিনা তাও পরীক্ষা করা হচ্ছে। এটি নিরাপদ প্রমাণিত হলে কৃষকদের উৎপাদন খরচ কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
এ বিষয়ে দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অনিন্দ্য গুহ বলেন, বর্তমান জ্বালানি সংকটের প্রেক্ষাপটে এ ধরনের উদ্ভাবন অত্যন্ত সময়োপযোগী। পরীক্ষায় ইতিবাচক ফল পাওয়া গেলে উদ্ভাবককে সরকারি সহায়তা দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, মনিরুল ইসলামের এই উদ্যোগ সফল হলে ডিজেল সংকট মোকাবিলার পাশাপাশি কৃষিতে সাশ্রয়ী সেচ ব্যবস্থার নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হতে পারে।

