রাসেল আহমেদ, খুলনা প্রতিনিধি
প্রতি কিলোমিটারে প্রায় পাঁচ কোটি টাকা ব্যয়ে পুনর্নির্মাণ করা হয়েছিল খুলনা-সাতক্ষীরা মহাসড়ক। নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার মাত্র তিন বছরের মধ্যেই সড়কটির অবস্থা এতটাই করুণ হয়ে পড়েছে যে, বর্তমানে এটি মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে জিরো পয়েন্ট থেকে কৈয়া পর্যন্ত প্রায় পাঁচ কিলোমিটার অংশে যান চলাচল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
সড়কটির বিভিন্ন স্থানে উঠে গেছে বিটুমিন, তৈরি হয়েছে অসংখ্য ছোট-বড় গর্ত। কোথাও পিচ সরে গিয়ে ঢিবি তৈরি হয়েছে, আবার কোথাও সড়ক ডেবে গিয়ে ঢেউয়ের মতো অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। কিছু জায়গায় ইট বিছিয়ে সাময়িক সমাধানের চেষ্টা করা হলেও তা স্থায়ী সমাধান নয় বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
৬৪ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের এই মহাসড়কের মধ্যে ৩৩ কিলোমিটার পড়েছে খুলনা জেলায়, যা শুরু হয়েছে খুলনার জিরো পয়েন্ট থেকে ডুমুরিয়া উপজেলার আঠারোমাইল পর্যন্ত। সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, মহাসড়কটির প্রশস্তকরণ ও পুনর্নির্মাণ কাজ শুরু হয় ২০১৮ সালে এবং শেষ হয় ২০২০ সালের জুনে। নির্মাণ শেষ হওয়ার এক বছরের মাথায়ই সড়কের বিভিন্ন অংশে সমস্যা দেখা দেয়—বিটুমিন উঠে যাওয়া ও গর্ত তৈরি হতে শুরু করে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কাজটি সঠিক মান বজায় না রেখে তড়িঘড়ি করে শেষ করা হয়েছে। ফলে এত অল্প সময়ের ব্যবধানে সড়কটির এমন করুণ দশা হয়েছে।
নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) ডুমুরিয়া উপজেলা শাখার সভাপতি খান মহিদুল ইসলাম নবধারা’কে বলেন,
সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দর থেকে প্রতিদিন শত শত ভারী যানবাহন এই সড়ক দিয়ে চলাচল করছে। কিন্তু সড়কটির কাঠামো সে অনুযায়ী তৈরি হয়নি। নিম্নমানের নির্মাণকাজের কারণে এখন এটি দুর্ঘটনার ফাঁদে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিনই দুর্ঘটনা ঘটছে। যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন।
অন্যদিকে সওজ খুলনা অঞ্চলের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. তানিমুল হক বলেন,
পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর খুলনা-সাতক্ষীরা মহাসড়কে যানবাহনের চাপ বেড়ে গেছে প্রায় ৬০ শতাংশ। কিন্তু সড়কটি যে ধরনের ফাউন্ডেশনে নির্মিত হয়েছে, তা এত ভারী যানবাহনের চাপ সহ্য করার উপযোগী নয়।
স্থানীয়দের দাবি, যত দ্রুত সম্ভব এই সড়কের পূর্ণাঙ্গ সংস্কার ও ভারবহনক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হোক। নইলে দুর্ঘটনার হার আরও বাড়বে এবং খুলনার সঙ্গে সাতক্ষীরার গুরুত্বপূর্ণ এই যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়বে।

