জাবেদ হোসাইন মামুন, ফেনী প্রতিনিধি
ফেনীর সোনাগাজীতে ৩৫০ ভুয়া মুক্তিযোদ্ধার গেজেট ও ঘর বরাদ্দ বাতিলের দাবি জানিয়েছেন সাবেক উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার ও চরচান্দিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা মফিজুল হক পাটোয়ারী। বুধবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সোনাগাজী প্রেসক্লাবের অস্থায়ী কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে মফিজুল হক পাটোয়ারী বলেন, মুক্তিযুদ্ধ শেষে সোনাগাজী উপজেলায় লালমুক্তি বার্তায় ৪০০ জন মুক্তিযোদ্ধার নাম প্রকাশিত হয়েছিল। কিন্তু আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দফায় দফায় এ সংখ্যা বেড়ে বর্তমানে দাঁড়িয়েছে ৬২১ জনে। এর মধ্যে অন্তত ৩৫০ জন ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা, যারা সরকারি ভাতা ভোগ করছেন। এ ছাড়া উপজেলায় বরাদ্দ পাওয়া ৮০টি বীর নিবাস ঘরের মধ্যে ২০ জন ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা ঘর পেয়েছেন।
তিনি অভিযোগ করেন, ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের কারণে রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে কোটি কোটি টাকা অপচয় হচ্ছে। প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের প্রাপ্য সুবিধা দেওয়ায় তার কোনো আপত্তি নেই, তবে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের নাম তালিকায় যুক্ত হওয়ায় প্রকৃত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ হচ্ছে। প্রায় এক বছর আগে মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপদেষ্টা ফারুকী আজমকে লিখিত অভিযোগ দিলেও এ বিষয়ে এখনও কোনো তদন্ত হয়নি বলে তিনি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে মফিজুল হক পাটোয়ারী আরও অভিযোগ করেন, সাবেক উপজেলা কমান্ডার সৈয়দ নাসির উদ্দিন, সাবেক জেলা কমান্ডার আবদুল মোতালেবসহ কিছু অসাধু ব্যক্তি টাকার বিনিময়ে তালিকায় ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা বাড়িয়েছেন এবং সরকারি গেজেটে নাম অন্তর্ভুক্ত করেছেন। এ সময় তিনি সেনা গোয়েন্দাদের মাধ্যমে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা প্রণয়নের দাবি জানান।
তিনি ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের গেজেট ও ঘর বরাদ্দ বাতিল করে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে অর্থ ফেরত নেওয়ার জন্য প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনুসের কাছে জোর দাবি জানান। একই সঙ্গে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের বিরুদ্ধে সরকার কোনো ব্যবস্থা না নিলে হাইকোর্টে রিটসহ আইনি লড়াই চালিয়ে যাবেন বলেও ঘোষণা দেন।
সংবাদ সম্মেলনে মুক্তিযোদ্ধা অবসরপ্রাপ্ত হাবিলদার আহসান উল্যাহ উপস্থিত ছিলেন।

