রাসেল আহমেদ,খুলনা প্রতিনিধি
খুলনার দৌলতপুরের মুহসিন মহিলা কলেজে অবৈধভাবে দায়িত্ব গ্রহণ, অডিট অনিয়ম ও বেতন বন্ধসহ নানা অভিযোগের প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠেছেন শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসী।
এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার কলেজের অধ্যক্ষের কক্ষে তালা ঝুলিয়ে দেন বিক্ষুদ্ধ অভিভাবকরা। একই সঙ্গে কলেজের প্রধান ফটকের সামনে অভিভাবক সমাবেশ ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ অডিটে সাবেক অধ্যক্ষ মো. আব্দুল লতিফের বিরুদ্ধে এক কোটি একুশ লক্ষ বিরাশি হাজার ছয় শত চুয়াত্তর টাকা আত্মসাৎসহ একাধিক প্রশাসনিক অনিয়মের প্রমাণ মিললেও তা আড়াল করতে নওরোজী কবির অবৈধভাবে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব দখল করেন। তারা আরও অভিযোগ করেন, তিনি উপাধ্যক্ষসহ সাতজন কর্মকর্তা-কর্মচারীর বেতন বন্ধ করে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করেছেন।
বক্তারা অবিলম্বে বকেয়া বেতন চালুর পাশাপাশি আর্থিক অনিয়মের সুষ্ঠু তদন্ত ও নওরোজী কবিরকে অপসারণ করে বিধি মোতাবেক ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নিয়োগের দাবি জানান। মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন উপাধ্যক্ষসহ সাতজন কর্মকর্তা-কর্মচারীর অভিভাবক মো. হামেজ উদ্দিন হাওলাদার, সঞ্জয় সরকার, আব্দুর রাজ্জাক গাজী, মো. মিজান, জাহিদ সিদ্দিকসহ আরও অনেকে।
এর আগে বিক্ষুব্ধ অভিভাবকরা অধ্যক্ষের কক্ষে তালা দেন এবং নওরোজী কবিরের নামফলক ভেঙে ফেলেন। এ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে নওরোজী কবির বলেন, “নিয়োগ ও বেতনসংক্রান্ত বিষয় নিয়ে আমার কক্ষে তালা দেওয়া হয়েছে। সামনে থাকা নেমপ্লেটও ভেঙে ফেলা হয়েছে।”
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় গত ১০ সেপ্টেম্বর কলেজ কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়ে জানিয়েছে বিধিমতে নওরোজী কবিরের এই কলেজে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালনের সুযোগ নেই।
এ ঘটনায় কলেজের শিক্ষার্থী-অভিভাবক মহলে নতুন করে ক্ষোভের আগুন জ্বলে ওঠে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি উঠেছে স্থানীয়দের পক্ষ থেকেও।

