পাথরঘাটা (বরগুনা) প্রতিনিধি
বরগুনার পাথরঘাটায় প্রায় সাড়ে ৩ লাখ মানুষের চিকিৎসার একমাত্র ভরসা পাথরঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। তবে এই হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা নিতে এসে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন সাধারণ রোগীরা। অভিযোগ উঠেছে, সরকারি নিয়ম অমান্য করে চিকিৎসকদের ভিজিট আওয়ারেই বিভিন্ন ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিরা ডাক্তারদের কক্ষে ভিড় করছেন। এতে লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে অসুস্থ রোগীদের। কর্তৃপক্ষের এমন উদাসীনতার কারণেই প্রতিনিধিরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, প্রতিদিন সকাল থেকেই দূর-দূরান্ত থেকে আসা রোগীরা দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকেন। কিন্তু রোগীদের সিরিয়াল না আসলেও বিভিন্ন ওষুধ কোম্পানির লোকজনকে অনায়াসেই ডাক্তারদের কক্ষে ঢুকতে দেখা যায়। অনেক ক্ষেত্রে রোগীদের কক্ষের দরজায় দাঁড় করিয়ে রেখে রিপ্রেজেন্টেটিভরা নিজেদের পণ্যের প্রচার করছেন।
ভুক্তভোগী এক রোগী জানান, আমরা অসুস্থ শরীর নিয়ে দাঁড়িয়ে আছি, অথচ ওষুধের লোকগুলো আমাদের সামনেই ঢুকে যাচ্ছে। নিয়ম অনুযায়ী, অফিস চলাকালীন সময়ে ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের হাসপাতালে ঢোকা বা ডাক্তারদের সাথে দেখা করার ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকলেও পাথরঘাটায় তা মানা হচ্ছে না। অভিযোগ রয়েছে, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সব দেখেও না দেখার ভান করে থাকছে। এভাবে চলতে থাকলে আমরা আর চিকিৎসা সেবা নিতে আসতে পারবো না। আর আসলেও ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকে আরও অসুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরতে হয়। এ উপজেলার প্রায় সাড়ে ৩ লাখ মানুষের এই চিকিৎসা কেন্দ্রে পর্যাপ্ত আসন ও জনবল সংকটের পাশাপাশি এমন অব্যবস্থাপনায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। দ্রুত এই ‘রিপ্রেজেন্টেটিভ কালচার’ বন্ধ করে সাধারণ মানুষের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন পাথরঘাটাবাসী।
পাথরঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার রাখাল বিশ্বাস অপূর্ব জানান, ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিরা সকাল সাড়ে নয়টা পর্যন্ত এবং দুপুর দেড়টা পর্যন্ত সময় পেয়েছেন। এই সময়ের মধ্যে তারা চিকিৎসকদের সঙ্গে দেখা করে চলে যাবেন। কিন্তু এরপরেও যদি ভিজিট করেন তবে রোগীরা ভোগান্তিতে পড়েন। রোগীদের কষ্ট দিয়ে রিপ্রেজেন্টেটিভদের এভাবে ভিজিট করা ঠিক নয়। আমরা তাদের সাথে কথা বলব, যাতে তারা এরকম না করেন।

