Nabadhara
ঢাকাবৃহস্পতিবার , ৪ ডিসেম্বর ২০২৫
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. ইতিহাস
  5. কৃষি
  6. খুলনা বিভাগ
  7. খেলাধুলা
  8. চট্টগ্রাম বিভাগ
  9. জাতীয়
  10. জামালপুর
  11. জেলার সংবাদ
  12. ঝালকাঠি
  13. ঝিনাইদহ
  14. ঢাকা বিভাগ
  15. তথ্যপ্রযুক্তি
আজকের সর্বশেষ সবখবর

তিন চক্রের চাপে বেসামাল বনবিভাগ

আনিস সুমন, শ্যামনগর (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি
ডিসেম্বর ৪, ২০২৫ ৭:১৮ অপরাহ্ণ
Link Copied!

আনিস সুমন, শ্যামনগর (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি

‘ফরেষ্টাররা বেশ বাড়িয়েছে, তাদের বাড়ানো একটু কমিয়ে নেই। আপনার চিন্তা করতে হবে না, সামনে আপনার চলার পথ হবেনে। অপর প্রান্তে থাকা বনজীবিকে মোবাইলে কথাগুলো বলছেন সুন্দরবন প্রেসক্লাবের সভাপতি বিলাল হোসেন।

একই সংগঠনের সদস্য সাংবাদিক আব্দুল্লাহকে অন্য এক বনজীবির মোবাইলে বলতে শোনা যায় ‘ফজলুল সাহেব(রেঞ্জার) শান্তিতে ছিল, আর শান্তিতে থাকবে না। এবার লেগে গেছে, মৌমাছির মত লাগবেনে’। এসময় তাকে আরও বলতে শোনা যায়, ‘বন থেকে সাংবাদিক কাদেরের নৌকা ডাঙায় উঠলি সেও শুরু করবে’।
প্রতিবেদকের হাতে আসা এসব কল রেকর্ড বিশ্লেষন আর রেঞ্জ কর্মকর্তার দপ্তরসুত্রে জানা যায় গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় স্থানীয় সাংবাদিক সংগঠনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক রেঞ্জ অফিসে যান।

এসময় সংগঠনের দাপ্তরিক নানাবিধ খরচ নির্বাহের কথা বলে তারা সুন্দরবনের অভয়ারণ্যে যেয়ে মাছ শিকারের জন্য দু’টি নৌকা পাঠানোর ‘আবদার’ জানায়। কিন্তু সাতক্ষীরা রেঞ্জের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা মোঃ ফজলুল হক তাদের অনার্য্য দাবি পুরণে নিজের অপারগতার কথা জানান।

এঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে উক্ত সাংবাদিকদ্বয় সহকর্মীদের নিয়ে রেঞ্জ কর্মকর্তাসহ তার অধিনস্থ কর্মচারীদের নিয়ে স্থানীয় কয়েকটি গনমাধ্যমে অব্যাহতভাবে নেতিবাচক প্রচারনা শুরু করেছে।

একইসাথে তারা ব্যক্তিগত এবং সংগঠনের ফেসবুকে নানান তথ্য ছড়িয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিশোদগারে মেতেছেন। এমনকি বাইরের সাংবাদিকদের নিকট ভুল তথ্য সরবরাহ করে বনবিভাগকে চাপে ফেলে নিজেদের ‘অনার্য্য আবদার’ পুরণের মিশনে নেমেছেন।
এদিকে গত ১৬ নভেম্বর সকালে সীমান্তবর্তী নদীতে টহলে যেয়ে ডাকাতদের কবলে পড়ে হলদেবুনিয়া টহলফাঁড়ির বনরক্ষীরা।

তালপট্রি এলাকায় পৌছাতেই ১২/১৩ জনের একদল স্বশস্ত্র জলদস্যু তাদের ঘিরে ফেলে বলে জানান টহলফাঁড়ির ইনচার্জ তানভীর হোসেন। এসময় জলদস্যুরা পরবর্তীতে উক্ত এলাকায় টহলে না যাওয়ার জন্যও বনপ্রহরীদের নির্দেশ দেয়।

তানভীর হোসেনের ভাষ্য ইতিপুর্বে হলদেবুনিয়া টহলফাঁড়িতে হামলা চালিয়ে জলদস্যুরা অস্ত্র লুটে নিয়েছিল। সে কারনে নিরাপত্তাজনিত কারনে তাদের অস্ত্র সরবরাহ করা হয় না। এদিকে অস্ত্রধারী জলদস্যুদের হুমকিতে তারা ইচ্ছামত সেখানে টহল পরিচালনা করতে পারছে না।

গত ৩০ নভেম্বর কয়েকজন জেলেকে আটকের পর ইউপি সদস্য আজগার আলী বুলু ধারা কমিয়ে দিতে হুমকি দিয়েছেন।

প্রায় অভিন্ন ঘটনার কথা জানান বুড়িগোয়ালীনি স্টেশন অফিসার জিয়াউর রহমান। তার ভাষ্য প্রায় পাঁচ সপ্তাহ পুর্বে টহলের একপর্যায়ে রাতের বেলা সুন্দরবনের ডিঙিমারী খালের মধ্যে স্পিড বোট ভিড়িয়ে তারা বিশ্রাম করছিলেন। এসময় প্রায় ১৪/১৫ জনের একদল জলদস্যু খালের দুই প্রান্ত দিয়ে এসে তাদের দু’পাশে অবস্থান নেয়। একপর্যায়ে বনকর্মী পরিচয় নিশ্চিত হয়ে দ্রুত সময়ে তাদেরকে উক্ত স্থান ত্যাগ করতে বলে দস্যুরা।

তবে শুধু সাংবাদিক আর জলদস্যুদের তৎপরতা না। বরং স্থানীয় প্রভাবশালীদের হুমকি-ধমকী আর হামলার ভয় প্রতিনিয়ত মোকাবেলা করতে হচ্ছে বনরক্ষীদের। সংশ্লিষ্টদের দাবি সুন্দরবন সংলগ্ন এলাকায় বসবাসরত অনেক প্রভাবশালী নানা সময়ে বিভিন্ন ধরনের অনৈতিক আবদার, তদবীর ও সুপারিশ করে। কথা রক্ষা করতে না পারলে হুমকি-ধমকী এমনকি দলবল নিয়ে হামলার ঘটনা পর্যন্ত তারা ঘটিয়ে থাকে।

মরাগাং টহলফাঁড়ির ইনচার্জ গোলাম কিবরিয়ার ভাষ্য গত ২৩ জানুয়ারীর শিকারী চক্রের ফাঁদে আটক হরিণ উদ্ধার করে সুন্দরবনে পুনরায় অবমুক্ত করায় শিকারী চক্রের সদস্যরা তাদের উপর হামলা করে। সে ঘটনায় ২৬ জানুয়ারী শ্যামনগর থানায় মামলা দায়ের করায় অপরাধীরা একটি রাজনৈতিক দলের আশ্রয় নিয়ে হুমকি ধমকী অব্যাহতভাবে রেখেছে। এঘটনার এক সপ্তাহ আগে সুন্দরবনের মধ্যে বিছিয়ে রাখা ফাঁদ উদ্ধার করায় স্থানীয় সিপিজি সদস্যের বাড়িতে হামলা ও ভাংচুর চালায় শিকারী চক্রের সদস্যরা।

মুন্সিগঞ্জ টহল ফাঁড়ির ইনচার্জ নির্মল কুমার জানান গত ১২ জুলাই বনবিভাগের স্ম্যার্ট টিমের সদস্যরা টহল দেয়ার সময় নোটাবেঁকী অভয়ারণ্যের খেজুরদানা খাল থেকে চারটি নৌকা আটক করে। এসময় কদমতলা এলাকার নবাব আলী, মুন্সিগঞ্জ সেন্ট্রাল কালিনগরের হোসাইন ও সাংবাদিক আব্দুল্লাহর ভাইপোর আহম্মদ আলীর নেতৃত্বে ১৫/১৬ জন তাদের উপর হামলা করে আটক নৌকাগুলো ছিনিয়ে নেয়। এর আগে সজল মুখার্জীর নেতৃত্বে স্ম্যার্ট টিমের সদস্যরা গত ২৭ মে বিষ ও ফাইবার জালসহ রায়মঙ্গল নদী হতে তিনটি নৌকাসহ ১১ জন জেলেকে আটক করে।

সেবারও জেলেরা সংঘবদ্ধ হয়ে বনরক্ষীদের উপর হামলা চালিয়ে মারধর করে লোকালয়ে ফিরে আসে। একইভাবে গত আগষ্টে টেংরাখালী মোড়ের মাথা হতে হরিণের মাংস উদ্ধারের পর আত্মসমর্পনকৃত জলদস্যু মাহমুদ উল্লাহ ডনের নেতৃত্বে টেংরাখালী ও মরাগাং টহলফাঁড়ির সদস্যদের উপর হামলা চালিয়ে আসামী ছিনিয়ে নেয়া হয়।

বনরক্ষীদের দাবি জলদস্যু আর প্রভাবশালীদের দাপটে দায়িত্ব পালনে তাদের রীতিমত হিমশিম খেতে হচ্ছে। এছাড়া জনবল সংকটের পাশাপাশি আধুনিক সরঞ্জামাদীর অভাব সেই অসহায়ত্বকে প্রকট করে তুলেছে। তার উপর নানান অনৈতিক আবদার নিয়ে আসা সাংবাদিকদের ‘জিম্মি’ করার মানসিকতা সঠিকভাবে কাজ করা ক্ষেত্রে অন্তরায় হয়ে দাড়াচ্ছে।

পশ্চিম সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জ কর্মকর্তা ফজলুল হক জানান, স্বল্প জনবল ও সামর্থ্য সত্ত্বেও প্রতিটি বনরক্ষী যথাযথভাবে দায়িত্ব পালনের আশ্রান চেষ্টা চালাচ্ছে। তারপরও জনবল সংকটের কারনে মাঝেমধ্যে কিছু অপরাধমুলক কর্মকান্ড ঘটলেও দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। তবে জলদস্যুদের তৎপরতার পাশাপাশি সুন্দরবন সংলগ্ন এলাকায় বসবাসরত কিছু প্রভাবশালী অহেতুক বনরক্ষীদের কাজে ব্যাঘাত সৃষ্টি করছে। এছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে অনার্য্য এবং অনৈতিক আবদার নিয়ে আসা স্থানীয় কতিপয় সাংবাদিক বনবিভাগকে রীতিমত জিম্মি করার অপচেষ্টায় লিপ্ত হয়েছে।

যাবতীয় বিষয় উর্ধ্বতন কতৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে সাংবাদিক আব্দুল্লাহ জানান কল রেকর্ডটি তার নয়। তবে সাংবাদিক কাদেরের নৌকা বনে থাকায় সামান্য কিছু কথা তিনি বলেছিলেন। সুন্দরবন প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মাসুম জানান, ৫ আগষ্টের পর কদমতলা স্টেশনে দুবৃর্ত্তদের হাম

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।