নান্দাইল (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি
ময়মনসিংহের নান্দাইলে চলতি বোরো মৌসুমে অতিবৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার কারণে শত শত হেক্টর জমির ধান তলিয়ে গেছে, এতে কৃষকদের মধ্যে চরম হতাশা দেখা দিয়েছে।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে নান্দাইলে ৯৩৫ হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষ করা হয়েছিল। এর মধ্যে প্রায় ২০২ হেক্টর জমির ধান সম্পূর্ণভাবে পানির নিচে তলিয়ে গেছে এবং আরও ৭০৫ হেক্টর জমির ফসল আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
সরেজমিনে আচারগাঁও, নান্দাইল, গাংগাইল, বেতাগৈর ও চরবেতাগৈরসহ বিভিন্ন এলাকায় দেখা গেছে, আধাপাকা ধান পানিতে ডুবে আছে। কোথাও কৃষকরা হাঁটু বা বুক সমান পানিতে নেমে ধান কাটার চেষ্টা করছেন, আবার কোথাও নৌকা বা ভেলায় করে ধান কাটতে দেখা গেছে।
কৃষকদের অভিযোগ, টানা ভারি বর্ষণের পাশাপাশি স্থানীয়ভাবে বিল ও খালে অবৈধ বাঁধ দিয়ে মাছ ধরার কারণে পানি নিষ্কাশন বাধাগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া ফসলি জমিতে অপরিকল্পিত পুকুর খননের ফলে পানি প্রবাহের স্বাভাবিক পথ বন্ধ হয়ে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে।
শিমুলতলা গ্রামের কৃষক শফিকুল ইসলাম বলেন, “শ্রমিক সংকট আর আগাম বৃষ্টিতে আমাদের ধান পানির নিচে চলে গেছে। সব শেষ হয়ে গেছে।”
ভাটি সাভার গ্রামের কৃষক আজিজুল হক বলেন, “ধান কাটার শ্রমিক না পাওয়া এবং কম্বাইন্ড হারভেস্টারের অতিরিক্ত ভাড়ার কারণে আমরা দ্বিগুণ ক্ষতির মুখে পড়েছি। জলাবদ্ধতার কারণে ধান ঘরে তুলতে পারছি না।”
বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন নান্দাইল উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক এনামুল হক বাবুল বলেন, ঋণ নিয়ে চাষ করা কৃষকরা এখন দিশেহারা। তার মতে, অবৈধ বাঁধ ও অপরিকল্পিত পুকুর খননই জলাবদ্ধতার প্রধান কারণ। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য সরকারি সহায়তার দাবি জানান।
এ বিষয়ে সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা শাহানা নাজনীন জানান, জলাশয়ে পুকুর নির্মাণে আইনি বিধিনিষেধ রয়েছে। পানি প্রবাহ বন্ধ করে কেউ অবৈধভাবে বাঁধ দিলে বা পুকুর খনন করলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নাঈমা সুলতানা বলেন, অতিবৃষ্টি ও জলাবদ্ধতায় প্রায় ২০২ হেক্টর জমির ধান পানিতে তলিয়ে গেছে, এতে আনুমানিক ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৪ কোটি ৮৬ লাখ টাকা। পানি দ্রুত নেমে গেলে ক্ষতি কিছুটা কমানো সম্ভব হবে বলেও তিনি জানান। পাশাপাশি কৃষকদের অবশিষ্ট ধান দ্রুত কাটার জন্য মাঠ পর্যায়ে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

