দুমকি (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি
তিন দফা দাবি বাস্তবায়নের দাবিতে পটুয়াখালীর দুমকিতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকেরা কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচি পালন করছেন।
বৃহস্পতিবার (৪ ডিসেম্বর) সকাল থেকে উপজেলার সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ক্লাস ও পরীক্ষা সম্পূর্ণভাবে বর্জন করে শিক্ষকেরা ঐক্যবদ্ধভাবে এই আন্দোলন শুরু করেন। এর ফলে বর্তমানে চলমান বার্ষিক পরীক্ষার কার্যক্রম মারাত্মকভাবে হুমকির মুখে পড়েছে।
সকালে দুমকি উপজেলা পরিষদ চত্বরে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) কার্যালয়ে আন্দোলনরত শিক্ষকেরা তাঁদের তিন দফা দাবি দ্রুত বাস্তবায়নের লক্ষ্যে প্রধান উপদেষ্টা বরাবর একটি স্মারকলিপি পেশ করেন।উপজেলার বিভিন্ন বিদ্যালয় থেকে আসা প্রায় দুই শতাধিক সহকারী শিক্ষক এতে অংশ নেন।
স্মারকলিপি প্রদানের সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার সুনীল চন্দ্র দেবনাথ।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোছাঃ ফরিদা সুলতানা বলেন, তাদের স্মারকলিপি গ্রহণ করা হয়েছে এবং যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে।
আন্দোলনের নেপথ্যে ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
শিক্ষকেরা জানান, এই কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচিটি ‘প্রাথমিক শিক্ষক দাবি বাস্তবায়ন পরিষদ’-এর কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ। সারাদেশের ন্যায় দুমকিতেও একই দাবি নিয়ে শিক্ষকেরা মাঠে নেমেছেন।
তাঁরা স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, যদি তাঁদের দাবিগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন করা না হয়, তবে চলমান কর্মসূচি আরও কঠোর করা হবে।
স্মারকলিপি প্রদান কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেওয়া শিক্ষক নেতাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন কে এম জামাল আহমেদ, শাহজাহান সরদার, নেছার উদ্দিন, সাকিবুর রহমান সজিব, রেজভী আক্তার, সাদিয়া আফরিন এবং রুবেলসহ আরও অনেকে।
অভিভাবক ও সংশ্লিষ্টদের উদ্বেগ শিক্ষকদের এই কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচি অব্যাহত থাকলে উপজেলার শিক্ষার্থীদের বার্ষিক পরীক্ষা গ্রহণে বড় ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টি হতে পারে। এতে ফল প্রকাশ ও পরবর্তী শ্রেণিতে ভর্তির প্রক্রিয়া নিয়েও জটিলতা তৈরির আশঙ্কা করছেন অভিভাবক মহল এবং সংশ্লিষ্ট শিক্ষাবিদগণ। পুরো উপজেলাজুড়ে এখন শিক্ষার ভবিষ্যৎ নিয়ে একপ্রকার অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

