Nabadhara
ঢাকারবিবার , ৩ মে ২০২৬
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. ইতিহাস
  5. কৃষি
  6. খুলনা বিভাগ
  7. খেলাধুলা
  8. চট্টগ্রাম বিভাগ
  9. জাতীয়
  10. জামালপুর
  11. জেলার সংবাদ
  12. ঝালকাঠি
  13. ঝিনাইদহ
  14. ঢাকা বিভাগ
  15. তথ্যপ্রযুক্তি
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বগুড়ার শেরপুরে সেচ নলকূপের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্নের অভিযোগ, কৃষকের ক্ষতির আশঙ্কা

শেরপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি 
মে ৩, ২০২৬ ৪:৩৩ অপরাহ্ণ
Link Copied!

শেরপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি 

বগুড়ার শেরপুর উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের মাথাইল চাপড় গ্রামে একটি পৈতৃক সেচ নলকূপের লাইসেন্স বাতিল ও বিদ্যুৎ সংযোগ অবৈধভাবে বিচ্ছিন্ন রাখার অভিযোগ উঠেছে। এতে কৃষক মো. মাসুদ রানা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ার পাশাপাশি স্থানীয় কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

ভুক্তভোগী মাসুদ রানা জানান, তার পিতা মৃত আনিসুর রহমান ১৯৮৮ সালে আইআরডিবির মাধ্যমে একটি অগভীর নলকূপ এবং ১৯৯৯ সালে বগুড়ার সেউজগাড়ি জামতলা এলাকা থেকে বিএডিসি অনুমোদিত ডিলারের মাধ্যমে একটি গভীর নলকূপ স্থাপন করেন। দীর্ঘদিন ধরে ওই নলকূপের মাধ্যমে নিজ জমিসহ আশপাশের কৃষকদের জমিতে সেচ সুবিধা দিয়ে আসছিলেন তারা। পিতার মৃত্যুর পর তিনিই এ কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন।

তিনি বলেন, ২০০৮ সালের আগে সেচ কার্যক্রম পরিচালনায় লাইসেন্সের প্রয়োজন না থাকলেও পরে তা বাধ্যতামূলক করা হয়। এ প্রেক্ষিতে ২০১৫ সালে উপজেলা সেচ কমিটির কাছে লাইসেন্সের জন্য আবেদন করেন তিনি। এ সময় তার নলকূপের প্রায় ৫৮০ ফুট দূরত্বে আরেকটি গভীর নলকূপ স্থাপন করা হয়, যা ‘বরেন্দ্র’ নামে পরিচালিত হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। এতে অনিয়ম, কৃষকদের অজান্তে স্বাক্ষর গ্রহণ এবং প্রভাব খাটানোর অভিযোগ তুলে তিনি শেরপুর আদালতে মামলা দায়ের করেন। একই ঘটনায় স্থানীয় আরও কয়েকজন কৃষক পৃথক মামলা করেন।

মাসুদ রানা দাবি করেন, বিষয়টি বিচারাধীন থাকায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তার প্রতিপক্ষের লাইসেন্স প্রদান থেকে বিরত থাকে। তবে পরবর্তীতে ভিন্ন নামে একটি লাইসেন্স উপস্থাপন করা হয়, যার বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সুনির্দিষ্ট ঠিকানা বা নিজস্ব জমির তথ্যও পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ তার।

তিনি আরও জানান, তার নলকূপটি পুরাতন ও নিজস্ব জমিতে হওয়ায় যাচাই-বাছাই শেষে ২০২১ সালে তাকে লাইসেন্স প্রদান করা হয়। কিন্তু পুনরায় লাইসেন্স বাতিলের আবেদন করা হলে ২০২৩ সালে তা বাতিল হয়। এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করলে একই বছরের ডিসেম্বর মাসে লাইসেন্স পুনর্বহালের নির্দেশ দেওয়া হয় এবং পরে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি তার সংযোগ চালু করে। এরপর থেকে সেচ কার্যক্রম চলমান ছিল।

তবে ২০২৫ সালের ২০ অক্টোবর তার বিদ্যুৎ মিটার বিকল হলে তিনি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিকে অবহিত করেন এবং নতুন মিটার স্থাপনের জন্য ১ হাজার ৭১২ টাকা জমা দেন। কিন্তু দীর্ঘ সময়েও মিটার স্থাপন করা হয়নি। পরবর্তীতে তিনি জানতে পারেন, ২০২৫ সালের ১৯ আগস্ট তার লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে—যদিও এ বিষয়ে তাকে কোনো নোটিশ দেওয়া হয়নি বলে দাবি তার।

এ অবস্থায় তিনি ২০২৬ সালের ১২ জানুয়ারি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। তৎকালীন ইউএনও বিদ্যুৎ সংযোগ পুনঃস্থাপনের নির্দেশ দিলেও তা এখনো বাস্তবায়িত হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।

এ বিষয়ে উপজেলা বিএডিসি (সেচ) বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. রবিউল ইসলাম বলেন, ‘বরেন্দ্র’র অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয় এবং তাদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে।

পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডিজিএম উৎপল মন্ডল জানান, সেচ কমিটির লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্তের কারণে পুনরায় সংযোগ প্রদান করা হয়নি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইদুজ্জামান হিমু বলেন, পূর্বের সেচ কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে অভিযোগের ভিত্তিতে বিষয়টি পুনরায় খতিয়ে দেখা হবে।

রোববার (৩ মে) দুপুরে শেরপুর উপজেলা প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মাসুদ রানা তার অভিযোগ তুলে ধরেন। তিনি তার বৈধ লাইসেন্স ও বিদ্যুৎ সংযোগ দ্রুত পুনর্বহাল এবং ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।