কবির হোসেন, আলফাডাঙ্গা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি
ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থায় দেখা দিয়েছে চরম সংকট। উপজেলার ৭৩টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৫৫টিতেই নেই কোনো স্থায়ী প্রধান শিক্ষক। এতে প্রশাসনিক কার্যক্রম ও পাঠদান মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, মাত্র ১৮টি বিদ্যালয়ে স্থায়ী প্রধান শিক্ষক রয়েছেন। বাকি ৫৫টি বিদ্যালয়ের মধ্যে ২৯ জন সহকারী শিক্ষককে ‘চলতি দায়িত্বে’ এবং ২৬ জনকে ‘ভারপ্রাপ্ত’ প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। একইসঙ্গে ক্লাস ও দাপ্তরিক কাজ সামলাতে গিয়ে শিক্ষকরা পড়েছেন চরম চাপের মুখে।
জাতীয়করণ হওয়া কিছু বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের পদ নিয়ে মামলা থাকায় এবং ২০১৭ সাল থেকে নতুন নিয়োগ ও পদোন্নতি বন্ধ থাকায় এই সংকট আরও তীব্র হয়েছে।
দিগনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জেবা পারভীন বলেন, “আমাকে ক্লাস নেওয়ার পাশাপাশি দাপ্তরিক কাজও করতে হয়। এতে দু’দিকেই সমস্যা তৈরি হচ্ছে।”
আলফাডাঙ্গা মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জেসমিন আরা সুলতানা জানান, তার বিদ্যালয়ে ৬৬৮ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। এত বড় প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব একা সামলানো তার জন্য কষ্টকর হয়ে পড়েছে।
অভিভাবকরা অভিযোগ করেছেন, শিক্ষক সংকটের কারণে শিক্ষার্থীরা মানসম্মত শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তারা দ্রুত প্রধান শিক্ষক নিয়োগের দাবি জানান।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, “২০১৭ সাল থেকে নিয়োগ ও পদোন্নতি বন্ধ থাকায় এই সংকট তৈরি হয়েছে। আমরা শূন্য পদে নিয়োগের জন্য তালিকা পাঠিয়েছি। আশা করছি দ্রুত সমাধান হবে, তবে মামলার জটিলতার কারণে কিছুটা সময় লাগতে পারে।”

